আজ আপনাদের কে আমি মাল্টিপল মায়োলমা নামক একটি মারাত্মক হেমাটোলজির রোগ সম্বন্ধে কিছুটা ধারণা দিব।
মাল্টিপল মায়োলমা এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার, অন্য কথায় এটাকে প্লাসমা সেল নিওপ্লাজম ও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এর উৎপত্তি প্লাজমা সেল নামক বোন মেরোর একটি সেল থেকে।
প্লাসমা সেল আমাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা আমাদের শরীরকে রোগ প্রতিরোধক শক্তি দেয়।
মাল্টিপল মায়োলমা হলে এই প্লাজমা সেলগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে বোন মেরোতে ছোট ছোট দলা পাকানো কুন্ডলী তৈরি করে, অবশ্য এটা শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও করতে পারে।
এই দলা পাকানো কুন্ডুলি তৈরি করার কারনে হাড় বা অস্থি খেয়ে খেয়ে যায়, ফলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
এই মাইলোমাগুলো শিরদাঁড়ায় হলে শিরদাঁড়া তার দৃঢ়তা হারিয়ে ফেলে এবং নার্ভ কে চাপ দেয়, ফলে শিরদারায় প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং হাঁটাচলাতে সমস্যা তৈরি হয়।
মাল্টিপল মায়োলামা হলে প্লাজমা সেললগুলো যেহেতু সুস্থ অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারেনা তাই আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়,
আবার এই অসুস্থ আন্টিবডি গুলো কিডনি দিয়ে ফিল্টার হওয়ার সময় কিডনিকে অসুস্থ করে ফেলে।
তাহলে আমরা এখন বুঝতে পারলাম যে মাল্টিপল মায়লামা হলে আমাদের শরীরে প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে, আবার কিডনি তে অসুস্থতা দেখা দিতে পারে এবং সর্বোপরি শরীরে রোগ প্রতিরোধক শক্তি কমে যেতে পারে।
তাই মাল্টিপল মায়ালোমাতে আক্রান্ত রোগী গুলো সাধারণত প্রথম দিকে অর্থপেডিক এবং নেফ্রলজিস্ট ডাক্তার সাহেবদের শরণাপন্ন হন। উনারা যদি ঝটপট রোগীদের কে হেমাটোলজিস্ট ডাক্তারদের কাছে রেফার না করেন তাহলে রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে এবং নানা জটিলতা তৈরি হয়।
কিন্তু ভালো ব্যাপার হচ্ছে এই যে, মাল্টিপল মায়ালমার একটি মারাত্মক রোগ হওয়ার পরেও সঠিক সময়ে এই রোগ ধরা পড়লে এবং চিকিৎসা নিলে ,এর সুন্দর চিকিৎসা বর্তমান রয়েছে এবং রোগী সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই রোগের চিকিৎসা খরচও অনেক অনেক কম।
আমি আশা করব আমাদের রোগীরা এ বিষয়ে আরো যত্নবান হবেন এবং দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিবেন